যেভাবে একজন ডেটা ইনফর্মড এবং রিসার্চ ফোকাসড প্রোডাক্ট ডিজাইনার হয়ে উঠবেন

প্রোডাক্ট বনাম এজেন্সি: ডেটা ইনফর্মড প্রোডাক্ট ডিজাইনারদের ক্যারিয়ার শুরু করার গাইড – কোন পথ আপনার জন্য?

ডিজাইন

২৯ অক্টো, ২০২৪

Writing Better Case Studies | Khalid Hasan Zibon's Blog
Writing Better Case Studies | Khalid Hasan Zibon's Blog

শুরুটা আলাদা

আলোচনার সুবিধার্থে প্রথমেই আমি ডিজাইনারদেরকে দুইভাগে ভাগ করে নেই, কারণ অবস্থাভেদে শুরুটা একটু আলাদা হবে।

গ্রুপ কঃ যারা সরাসরি ইউজারদের নিয়ে কাজ করে, যেমনঃ প্রোডাক্ট বা ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইনার

গ্রুপ খঃ যাদের সরাসরি ইউজারদের এক্সেস নেই, যেমন এজেন্সির ডিজাইনার


১. ডেটার প্রবাহ তৈরি

গ্রুপ ক-এর ডিজাইনারদের জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে ডেটার একটা প্রবাহ তৈরি করা। অর্থাৎ, বেসিক কিছু ইভেন্ট যেন রেকর্ড হয়ে এনালিটিক্স টুলে ডেটা আসতে শুরু করে, সেজন্য ডেভ টিমের সাথে একত্রে কাজ করা। আগের অভিজ্ঞতা না থাকলে ডিজাইনার এবং ডেভ টিম দুইজনেরই একটু বেসিক পড়াশোনার দরকার হবে। কিছু এনালিটিক্স টুলের জন্য হয়তো বাড়তি খরচের প্রয়োজনই হবে না। যেমন গুগল এনালিটিক্স বা মিক্সপ্যানেল (২০ মিলিয়ন ইভেন্ট ফ্রী)। অন্য সবকিছুর আগে, এমনকি এটা কেন করছে সেটাও ভালো করে বোঝার আগে আমি এই কাজটা করতে বলি কারণ তাতে লং টার্মে পুরনো ডেটার সাথে তুলনা করে ইমপ্যাক্ট এনালাইসিস করতে সুবিধা হয়।


একটি ছবি যা প্রোডাক্ট এনালিটিক্স টুলসের নাম ও লগো দেখায়: Google Analytics, Mixpanel, Amplitude, Heap, Keen IO, KISSmetrics, Amazon S3, এবং HubSpot Analytics. A grid showcasing popular product analytics tools: Google Analytics, Mixpanel, Amplitude, Heap, Keen IO, KISSmetrics, Amazon S3, and HubSpot Analytics. এই ছবিটি জীবনের ভাবনার জগত | Zibon Thinks এর অংশ, যা খালিদ হাসান জীবন | Khalid Hasan Zibon কর্তৃক পরিচালিত। ব্লগ | Blog


২. রিসার্চ এর তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন

পরের কাজ হচ্ছে রিসার্চ কী, কেন, কীভাবে, কখন, কোথায়, কোনটা – এই জিনিসগুলো শিখে ফেলা। তত্ত্ব জানা থাকলে ব্যবহারিক শুরু করতে পারবে। এই তত্ত্ব জানতে কয়েকটি বইয়ের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, সেইসাথে AI Tools এবং গুগল/ইউটিউব তো আছেই। আমি কিছুদিন আগে একটা বইয়ের সন্ধান পেয়েছি, নিজে পড়ে শেষ করিনাই, তবে দেখেছি এবং ছোট বই বলে আমি রিকমেন্ড করি এটা। নাম হচ্ছেঃ The Craft of Research by Booth, Colomb, Williams, Bizup, and FitzGerald (5th ed, 2024)। বইটা আসলে ডিজাইনারদের জন্য লেখা হয়নাই, একাডেমিক রিসার্চারদের জন্য লেখা হইছে। তবে গবেষণার ফাউন্ডেশনাল কিছু নলেজ কিন্তু সবার জন্য একই! এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখে লেখা আর বাড়াচ্ছি না। আর নিজে পড়েছি এমন দুইটা বই কনফিডেন্টলি রিকমেন্ড করতে পারিঃ

  • UX For Lean Startups by Laura Klein

  • The User Experience Team of One by Leah Buley

চমৎকার দুইটা বই, জুনিয়র, মিড, সিনিয়র – সবার জন্য।


UX রিসার্চ শেখার ভালো বই: "The Craft of Research," "The User Experience Team of One," এবং "UX for Lean Startups." Three books showcasing foundational knowledge in UX research: "The Craft of Research," "The User Experience Team of One," and "UX for Lean Startups." এই ছবিটি জীবনের ভাবনার জগত | Zibon Thinks এর অংশ, যা খালিদ হাসান জীবন | Khalid Hasan Zibon কর্তৃক পরিচালিত। ব্লগ | Blog


৩. স্কোপের বাইরে গিয়ে বাড়তি কাজ

আমাদের দেশে যে শুধু ইউএক্স ম্যাচিউরিটি কম, তা না। আমাদের দেশে ইন্ডাস্ট্রিই এখনো সেভাবে ম্যাচিওরড হয়নি।

এখানে বেশিরভাগ কোম্পানির টপ ডিসিশন মেকাররা এখনো মনে করে ইউএক্স মূলত ইন্টারফেইস ডিজাইন করা, প্রোডাক্ট দেখতে সুন্দর করা। বিজনেসে এর ভূমিকা নাই বা থাকলেও খুবই সামান্য। এর ফলে তারা ডিজাইনারদের যথেষ্ট সময়, স্কোপ, বাজেট বা কোন ধরণের আলাদা সাপোর্ট দিতে চান না। তাহলে একজন ডিজাইনারের লার্নিং বা গ্রোথ হবে কীভাবে? বিজনেসে সে ইমপ্যাক্ট ফেলবে কীভাবে? তার রেজুমি এবং পোর্টফোলিওতে ইম্প্যাক্টফুল কাজই বা যোগ হবে কীভাবে?

এখানেই ডিজাইনারকে একটু একটিভ রোল নিতে হবে স্কোপের বাইরে গিয়ে কাজ করার। অর্থাৎ, ওপরে উল্লেখিত ২ নাম্বার পয়েন্টে সে যা শিখেছে, সেগুলোই ছোট ছোট করে প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করতে হবে। যেমনঃ

  • গেরিলা ইউজেবিলিটি টেস্ট

  • ফাইভ সেকেন্ড টেস্ট

  • কম্পিটিটর এনালাইসিস

  • হিউরিস্টিক মার্কআপ

  • হিউরিস্টিক ইভালুয়েশন

  • ইউজার ইন্টার্ভিউ (ছোট পরিসরে)

এই জিনিসগুলো কিন্তু বাড়তি কোন সাপোর্ট ছাড়াই একজন ডিজাইনার করে ফেলতে পারে। আর এনএন গ্রুপের ফাইন্ডিং হচ্ছে, ইউজেবিলিটি টেস্টের মাধ্যমে ৮০% ইস্যু খুঁজে বের করতে পার্টিসিপেন্ট লাগে মাত্র ৫ জন! ডোন্ট মেইক মি থিংক বইয়ের লেখক স্টিভ ক্রুগের মতে, একেবারেই টেস্ট না করার চেয়ে মাত্র একজনকে দিয়ে টেস্ট করানো ১০০% বেটার! 😀


Usability Testing - Don't Make Me Think - Steve Krug


তাহলে কেন করবেন না?

এই পর্যায়ে আরেকটা বই আমি রিকমেন্ড করিঃ Interviewing Users: How to Uncover Compelling Insights by Steve Portigal।


গ্রুপ ক-এর জন্য ডেটা এনালাইসিসের সুবিধা

ক গ্রুপের কথা মনে আছে? এই পর্যায়ে এসে তাদের জন্য কিন্তু এখন তুলনা করা মতো প্রচুর ডেটা আছে! তারা নতুন ডিজাইন শিপ করলেই সেটার ইমপ্যাক্ট আগের সাথে তুলনা করে দেখাতে পারবেন। এর ফলে কাজ ধীরে ধীরে সহজ হওয়া শুরু করবে, কারণ খুব সম্ভাবনা আছে আপনি অন্যদের কাছে থেকে সাপোর্ট পাওয়া শুরু করবেন।


৪. ডিজাইন এডুকেটর হিসেবে ভূমিকা

প্রত্যেক ডিজাইনারকে ডিজাইন এডুকেটরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। তার কাজ হবে নিজের ক্লায়েন্ট এবং কোম্পানিকে এডুকেট করা। তবে প্রথমদিকে এডুকেশনটা হতে হবে মূলত ফাইন্যান্সিয়াল বেনেফিট কেন্দ্রিক। দুইটা জিনিস ফোকাস করলেই হবে–

কীভাবে আপনি কোম্পানির আয় বাড়াতে পারেন?

কীভাবে আপনি কোম্পানির খরচ কমাতে পারেন?


How can good UX drive revenue, How can good UX reduce cost?


আর ৩ নাম্বার পয়েন্টে উল্লেখিত কাজগুলো করার পর কিছু ইনসাইটস তাদের সাথে শেয়ার করে তাদের আগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে। তারপর কোন একটা ইউজেবিলিটি টেস্টের সেশনে তাদের কাউকে উপস্থিত রাখার চেষ্টা করা, শুধু দর্শক হিসেবে, এমনকি রিমোটলি হলেও! এক্সপার্টরা বলেন এর ফলে দারুণ কাজ হয়, তারা নিজের চোখে একটা সেশন দেখলে এর গুরুত্ব বুঝে যায়। এছাড়াও স্টেইকহোল্ডারদের সাথে ডিজাইনার হিসেবে কীভাবে যোগাযোগ করা উচিৎ সেই বিষয়ে Tom Greever এর লেখা Articulating Design Decisions বইটা ভালো কিছু পরামর্শ দেবে।


Articulating Design Decisions by Tom Greever


৫. প্রথম দিকে মিনি কেইস স্টাডি দিয়ে শুরু করা

বাজারে প্রচলিত ফরম্যাটে সংক্ষিপ্ত আকারে করলেই যথেষ্ট।

  1. What

  2. Why

  3. Who

  4. How

  5. Impact

  6. Learnings

– এই কয়েকটা জিনিস কাভার করে ছোট ছোট কেইস স্টাডি লেখা শুরু করতে হবে। আমি নিজে এখনো ভালো প্রেজেন্টার না, তাই পরেরটুকু লিখতে একটু বিব্রত বোধ করছি; তবে জানলে উপকার হবে। 😀 প্রেজেন্টেশন দেওয়ার প্র্যাকটিস করা খুব দরকার। কারণ একজন ডিজাইনারের জীবনই পার হয়ে যাবে বিভিন্ন জিনিস প্রেজেন্ট করতে করতে! আপনি দুনিয়ার সব কোর্স, টিউটোরিয়াল, ভিডিও, বই, ইত্যাদি শেষ করে ফেলতে পারেন, তবে নিজে নিজে প্র্যাকটিস করার আগে কিছুই হবে না। হাতেনাতে প্রমাণ চান? প্রথমবারের প্র্যাকটিসের ভিডিও রেকর্ড করেন, তারপর ৫ বার একই জিনিস বলার প্র্যাকটিস করেন, তারপর ১ম বার এবং ৫ম বারের ভিডিও দুইটা তুলনা করেন। 😀


৬. নেটওয়ার্কিং এবং মেন্টরশিপ খোঁজা

ইন্ডাস্ট্রিতে যাদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, ইন্ডাস্ট্রি নলেজ আছে, এবং যাদের কাছ থেকে শেখা যাবে বলে মনে করেন তাদের কাছে মেন্টরশিপ নেওয়া এবং তাদের সাথে সখ্যতা তৈরির চেষ্টা করা। 😀 তাদের "Dunber's Number" বা সবচেয়ে পরিচিত ১৫০ জনের মধ্যে ঢুকতে হবে আরকি। এর ফলে যেমন একদিকে বিভিন্ন মুহুর্তে র‍্যান্ডমলি মহামূল্যবান পরামর্শ পাবেন, অন্যদিকে তাদেরই কেউ কেউ আপনাকে বিভিন্ন জবের সন্ধান দিতে পারবে এবং সুপারিশও করতে পারবে। বলা যায় না, তাদেরই কেউ হয়তো আপনাকে এমন একটি সুযোগ তৈরি করে দেবে যেখানে কাজ করার সুযোগ পেলে সেটা হয়ে যাবে আপনার ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট!


একটি স্কেচ যা "ডানবার নম্বর" বলে একটি তত্ত্ব দেয় যে ১৫০ জন লোককে আমরা সামগ্রিকভাবে সামাজিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরিচিতি রাখতে পারি। ছবিটি বিভিন্ন স্তরের সম্পর্ক (ট্রাইব, ক্ল্যান, সুপার ফ্যামিলি, ক্লোজ ফ্রেন্ডস) এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দেখায়। এটি ব্লগের "নেটওয়ার্কিং এবং মেন্টরশিপ খোঁজা" অংশে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে ডিজাইনারদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে যে তারা তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন। A sketch illustration explaining "Dunbar's Number," which suggests that humans can maintain social connections with approximately 150 people. The image shows different levels of relationships (tribe, clan, super family, close friends) and their depth. It is used on the blog's section about networking and mentorship, advising designers to build connections with influential individuals in their industry. এই ছবিটি জীবনের ভাবনার জগত | Zibon Thinks এর অংশ, যা খালিদ হাসান জীবন | Khalid Hasan Zibon কর্তৃক পরিচালিত। ব্লগ | Blog


শেষ কথা

পরিশেষে বলতে চাই, রিসার্চ এমন কিছু না যা সহজেই রপ্ত করে ফেলা যায়। প্রথমদিকে আপনার ভুল হবে, অনেক সময় অসমাপ্তও থাকবে। কখনো কখনো দুইয়ে দুইয়ে চার মিলবে না! যতো বেশি বেশি প্র্যাকটিস করতে পারবেন ততোই দক্ষ হয়ে উঠবেন। সবার আগে শুরুটা করে ফেলতে হবে এবং প্রতিটা ভুল থেকে শিখতে হবে। এবং সবসময় ইতিবাচক এবং নেতিবাচক যেকোন ধরণের নতুন তথ্য নেওয়ার জন্য ওপেন থাকতে হবে!

সমাপ্ত

লেখাটি ভালো লেগেছে?
অন্য কেউ জানলে উপকৃত হবে বলে মনে করেন? তাহলে শেয়ার করুন অন্যদের সাথে! 😊

এমন অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমার ভাবনার জগৎ তৈরি হয়েছে। সমাজ, রাজনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস — এসব বিষয়ে জানার কৌতূহলই আমাকে চিন্তা করতে শিখিয়েছে।

আমি খালিদ হাসান জীবন। পেশায় প্রোডাক্ট ডিজাইনার, কিন্তু আগ্রহের ক্ষেত্র তার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও, আমার শেখার ক্ষুধা কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। ডিজাইন থেকে দর্শন, প্রযুক্তি থেকে তত্ত্ব, সবকিছু নিয়েই ভাবতে ভালোবাসি।

আমি লিখি, যখন মনে হয় কোনো ভাবনা শুধু আমার মধ্যে আটকে না রেখে অন্যদের সাথেও ভাগ করা দরকার। যদি আমার লেখা কাউকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করে, কিংবা কোনো পুরোনো ধারণাকে একটু নাড়িয়ে দেয় — তাহলেই মনে হবে, লেখা সার্থক হয়েছে।

এমন অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমার ভাবনার জগৎ তৈরি হয়েছে। সমাজ, রাজনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস — এসব বিষয়ে জানার কৌতূহলই আমাকে চিন্তা করতে শিখিয়েছে।

আমি খালিদ হাসান জীবন। পেশায় প্রোডাক্ট ডিজাইনার, কিন্তু আগ্রহের ক্ষেত্র তার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও, আমার শেখার ক্ষুধা কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। ডিজাইন থেকে দর্শন, প্রযুক্তি থেকে তত্ত্ব, সবকিছু নিয়েই ভাবতে ভালোবাসি।

আমি লিখি, যখন মনে হয় কোনো ভাবনা শুধু আমার মধ্যে আটকে না রেখে অন্যদের সাথেও ভাগ করা দরকার। যদি আমার লেখা কাউকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করে, কিংবা কোনো পুরোনো ধারণাকে একটু নাড়িয়ে দেয় — তাহলেই মনে হবে, লেখা সার্থক হয়েছে।

এমন অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমার ভাবনার জগৎ তৈরি হয়েছে। সমাজ, রাজনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস — এসব বিষয়ে জানার কৌতূহলই আমাকে চিন্তা করতে শিখিয়েছে।

আমি খালিদ হাসান জীবন। পেশায় প্রোডাক্ট ডিজাইনার, কিন্তু আগ্রহের ক্ষেত্র তার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও, আমার শেখার ক্ষুধা কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। ডিজাইন থেকে দর্শন, প্রযুক্তি থেকে তত্ত্ব, সবকিছু নিয়েই ভাবতে ভালোবাসি।

আমি লিখি, যখন মনে হয় কোনো ভাবনা শুধু আমার মধ্যে আটকে না রেখে অন্যদের সাথেও ভাগ করা দরকার। যদি আমার লেখা কাউকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করে, কিংবা কোনো পুরোনো ধারণাকে একটু নাড়িয়ে দেয় — তাহলেই মনে হবে, লেখা সার্থক হয়েছে।